ভালুকায় বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ সাবেক স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে 

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত : ২৫ মে ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
0 শেয়ার
ভালুকায় বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ সাবেক স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে 

মেয়ের জন্য লিচু কিনে দেখতে গিয়েছিলেন সাবেক শ্বশুরবাড়িতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন হাফিজ উদ্দিন (৬৩) নামে এক বৃদ্ধ। হত্যার পর তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।

নিহত হাফিজ উদ্দিন ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মোড়লের ছেলে।

নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ মে (সোমবার) সকালে হাফিজ উদ্দিন তাঁর বন্ধু নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে গয়েশপুর বাজার থেকে ছোট মেয়ে হাবিবার জন্য লিচু কিনে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া গ্রামে তাঁর সাবেক শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে পৌঁছে তিনি নাজমুলকে বাইরে বসিয়ে রেখে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর নাজমুল তাঁকে খোঁজ নিতে বাড়ির ভেতরে গেলে দেখেন, হাফিজ উদ্দিন রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির পাশের একটি ক্ষেতের মধ্যে পড়ে আছেন। এ সময় হাফিজ উদ্দিনের সাবেক স্ত্রী নাজমা আক্তার, সাবেক শ্বশুর ও শাশুড়ি তাঁকেও মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে দ্রুত হাফিজ উদ্দিনকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বলা হয়। একপর্যায়ে নাজমুল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে হাফিজ উদ্দিনের মরদেহ ভালুকায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল বলেন, ‘সকালে গয়েশপুর বাজার থেকে মেয়ের জন্য লিচু কিনে হাফিজ ভাই আমাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর সাবেক শ্বশুরবাড়িতে যান। তিনি আমাকে বাইরে বসিয়ে রেখে ভেতরে যান। কিছুক্ষণ পর তাঁকে ডাকতে গিয়ে দেখি, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ক্ষেতের মধ্যে গড়াগড়ি করছেন। পরে আমাকেও মারধর করা হয়। পরে আমি তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি।’

স্থানীয় বাসিন্দা রিগান জানান, হাফিজ উদ্দিনের তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন নাজমা আক্তার। প্রায় দুই বছর আগে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরে নাজমা অন্যত্র বিয়ে করেন। নাজমার ঘরে হাফিজ উদ্দিনের তিন সন্তান রয়েছে—রাব্বি (১৮), নিরব (১৪) ও ছয় বছর বয়সী কন্যা হাবিবা।

তিনি বলেন, ‘ছোট মেয়ে হাবিবাকে দেখতে এবং তার জন্য লিচু নিয়ে হাফিজ উদ্দিন সাবেক শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর সাবেক স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্যালকেরা মিলে তাঁকে হত্যা করে লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গাজীপুরের শ্রীপুর থানার এলাকায় হওয়ায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেখানে বার্তা পাঠানো হয়েছে।