বিএনপি ছাড়লেন সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবির শাহীন
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য শাহ নুরুল কবির শাহীন। দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টেনে তিনি আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
শাহীনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ঈশ্বরগঞ্জ বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রিদওয়ান আহমেদ বলেন, “৪৩ বছর বিএনপির আদর্শে রাজনীতি করার পর নির্বাচনের একেবারে আগমুহূর্তে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক নয়। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়াটাই তার পদত্যাগের মূল কারণ। ২০০১ সালে এমপি হওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন দলের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। কিন্তু দলের পাশে থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।”
তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকেই এই পদত্যাগকে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, পদত্যাগের আগেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া প্রমাণ করে যে, তিনি দলের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত ইমেজ ও ক্ষমতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। একাধিক কর্মী মন্তব্য করেন, “যিনি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ফরম কেনেন, তার কাছে দলের আদর্শ কখনোই মুখ্য ছিল না।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, শাহীনের এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নয়; বরং এটি পূর্বপরিকল্পিত। তাদের মতে, এতে বিএনপির ভোটব্যাংক বিভক্ত হয়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি লাভবান হতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন সিদ্ধান্ত তার এতদিনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শাহ নুরুল কবির শাহীন বলেন, “আমি গত ৪৩ বছর ঈশ্বরগঞ্জের মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি। দলীয় পরিচয় না থাকলেও মানুষের পাশে থাকার রাজনীতি আগের মতোই চালিয়ে যাব।” অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আপাতত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু ভাবেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন