জমি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধকে হয়রানি ও খুন-জখমের হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:০০ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও আইনগত প্রতিকার চেয়ে ভালুকা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মো. ইয়াকুব আলী (৫৮)।

জিডিতে মেদুয়ারী গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম (৪৪), কামরুল ইসলাম ওরফে আসাদুল (৪৫), মো. সাইফুল ইসলাম (৪০) ও রুবেল (৪২)কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ইয়াকুব আলীর অভিযোগ, মেদুয়ারী মৌজার সাবেক দাগ নম্বর ৪৩৮ এবং হাল দাগ নম্বর ১৯০০ ও ১৮৯৯-এর আওতাধীন ৫৬ শতাংশ জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাঁর দাবি, তাঁকে নিরীহ পেয়ে ওই সম্পত্তি জবরদখলের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে।

জিডিতে ইয়াকুব আলী উল্লেখ করেন, তাঁর সম্পত্তিতে একটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ঘরটিতে প্লাস্টারের কাজ করতে গেলে অভিযুক্তরা বাধা দেন। একই সঙ্গে ওই দাগের এক কাঠা জমি তাঁদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। জমি লিখে না দিলে ঘর প্লাস্টারের কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

ইয়াকুব আলীর ভাষ্য, গত ৮ আগস্ট ২০২৫ বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে মেদুয়ারী কুছিলাতলী বাজারে তাঁকে ডেকে নেন অভিযুক্তরা। সেখানে তাঁদের নামে এক কাঠা জমি লিখে দিলে তাঁর সব জমিজমা-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার কথা বলা হয়। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।

ইয়াকুব আলী বলেন, তিনি চারটি কক্ষ নির্মাণের পর আরও একটি কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নিলে অভিযুক্তরা তাতেও বাধা দেন। পরে আরও তিনটি কক্ষ নির্মাণের চেষ্টা করলেও তাঁকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া গাছ বিক্রি, জমি চাষাবাদ এবং ঘরের প্লাস্টারের কাজেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। বিভিন্ন সময় তাঁকে মিথ্যা মামলা এবং হত্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইয়াকুব আলীর আশঙ্কা, অভিযুক্তরা যেকোনো সময় তাঁর পাকা বাড়িসহ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি জবরদখল করতে পারেন। তিনি বাধা দিলে তাঁকে মারধর বা খুন-জখম করা হতে পারে। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার কয়েকজন লোক নিয়ে তাঁর বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিকার চেয়েও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি থানায় জিডি করেছেন বলে জানান।

ইয়াকুব আলী বলেন, ‘জমি ও ঘরসংক্রান্ত কাজে বারবার বাধার মুখে পড়ছি। আমাকে জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। না দিলে মিথ্যা মামলা ও খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে আগেই থানাকে বিষয়টি জানিয়ে রাখার জন্যই জিডি করেছি।’

জিডিতে অভিযুক্ত রুবেল মুঠোফোনে বলেন, ‘তাঁরা দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলছে। নজরুল ইসলাম ঋণগ্রস্ত থাকায় তাঁর মেয়ের বিয়েসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে আমার কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়েছেন। পরে তিনি তাঁর একটি জমি আমার কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেন। আমি জমিটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তাঁর ভাই এতে বাধা দিচ্ছেন এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করছেন।’

রুবেলের দাবি, ‘জমিটি যাতে আমি কিনতে না পারি, সে উদ্দেশ্যেই আমার বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হচ্ছে। আমি একজন পুলিশ সদস্য হওয়ায় এসব অভিযোগের মাধ্যমে আমাকে পেশাগতভাবে দুর্বল বা হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের পারিবারিক ও জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হোক।’

 সম্পাদক ও প্রকাশক : আশিকুর রহমান | কপিরাইট © ভোরের পোস্ট, সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন