৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি, অবসরে ভালুকা পাইলটের শিক্ষক জলিল তালুকদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

দীর্ঘ ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টেনেছেন ময়মনসিংহের ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জলিল তালুকদার। ১৯৯৪ সালের ৮ মে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর দীর্ঘ সময় ধরে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৬ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

কর্মজীবনের শেষ দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে নিজের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন জলিল তালুকদার। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী, কর্মচারী এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

পোস্টে জলিল তালুকদার লেখেন, তিন দশকেরও বেশি সময় ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর পথচলা। সময়ের সঙ্গে বিদ্যালয়টি তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সুযোগকে তিনি জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ও সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি। পাঠদানের সময় কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি কখনো কঠোর আচরণ বা কষ্টদায়ক কোনো কথা বলা হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান সাবেক এ শিক্ষক।

সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করে তিনি তাঁদের জন্য শুভকামনা ও আশীর্বাদ জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা, মানবিকতা ও সাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের সহযাত্রী বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক, কর্মচারী এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান জলিল তালুকদার। তাঁদের সহযোগিতা, আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা ছাড়া এত দীর্ঘ পথ সফলভাবে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, চাকরিজীবনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শেষ হলেও ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক থেকে যাবে। ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়টির উন্নতি, সুনাম ও সাফল্য তাঁর প্রত্যাশার জায়গায় থাকবে।

১৯৯৪ সালের ৮ মে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া জলিল তালুকদারের ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটল ২০২৬ সালে অবসর গ্রহণের মধ্য দিয়ে। কর্মজীবনের শেষ দিনে তিনি অবসরোত্তর জীবনে সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও দীর্ঘায়ুর জন্য বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

 সম্পাদক ও প্রকাশক : আশিকুর রহমান | কপিরাইট © ভোরের পোস্ট, সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন