ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি মাদক মামলায় সাক্ষী হওয়ার জেরে ওই মামলার এক সাক্ষীকে মারধরের মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে মামলার বাদী মো. কাদির অভিযোগটি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলায় ফাঁসানোর পর আবার দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জুন ভালুকা মডেল থানা-পুলিশ দক্ষিণ হবিরবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০টি ইয়াবা বড়ি ও ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মো. কাদিরকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাসান-উদ-দৌলা বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১২৮৭। ওই মামলায় স্থানীয় বাসিন্দা মো. কাশেমকে (৫০) এক নম্বর সাক্ষী করা হয়।
এর প্রায় দুই বছর পর গত ২৫ জুলাই কাদির ভালুকা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ২৬ জুলাই থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ৮৮। এতে আফতাব, রেজাউল করিম বাবু, কাশেমসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে কাদির অভিযোগ করেন, গত ২১ জুলাই রাতে আসামিরা তাঁর ওপর বেআইনিভাবে হামলা চালান। এ সময় তাঁর কাছে থাকা ৪৬ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
তবে মাদক মামলার এক নম্বর সাক্ষী মো. কাশেম এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, পুলিশের অভিযানে কাদিরকে আটকের সময় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি শুধু সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলেন। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই তাঁকে মারধরের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
কাশেম বলেন, ‘আমরা মারামারির কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। শুধু পুলিশের অভিযানে সাক্ষী দেওয়ার কারণে হয়রানির উদ্দেশ্যে আমাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন পাওয়ার পরও পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছি। নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবার নিয়ে নিজ বাড়িতেও থাকতে পারছি না।’
কাশেম আরও দাবি করেন, কাদির মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত—এটি নতুন কোনো বিষয় নয়।
অভিযোগের বিষয়ে আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘কাদিরের সঙ্গে আমাদের কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। আমাদের হয়রানি করার জন্যই তিনি মামলায় আসামি করেছেন।’
অন্যদিকে মামলার বাদী মো. কাদির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাশেমসহ স্থানীয় একটি মহল পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছিল। পরে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, কাদিরের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে। তবে আগের ঘটনার বিষয়ে তিনি জানেন না বলে জানান।
তবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
