ঈশ্বরগঞ্জে বাউস-এর ইফতার পার্টিতে রণক্ষেত্র: জিলাপির প্যাঁচে রক্তাক্ত বেগুনি

মো. ইসহাক
প্রকাশিত : ৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ‘বাইক উন্নয়ন সমিতি (বাউস)’ কর্তৃক আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে খাবার দাবার নিয়ে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে প্লেটের ভেতর এক রক্তক্ষয়ী (তেলক্ষয়ী) সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জিলাপি ও বেগুনি।

ঈশ্বরগঞ্জের বাউস (BAUS) সদস্যরা যখন ইফতারের অপেক্ষায় মোনাজাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই প্লেটের ওপর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। জানা গেছে, বেগুনি যখন ডানা মেলে প্লেটের মাঝখানে বসার চেষ্টা করছিল, তখনই পাশ থেকে জিলাপি তার প্যাঁচানো শরীর নিয়ে আক্রমণ করে বসে। জিলাপির দাবি প্লেটের সবচেয়ে ‘সুইট’ জায়গাটা তারই প্রাপ্য।

জিলাপির প্যাঁচে পড়ে বাম দিকের মুচমুচে অংশটি হারিয়েছেন বেগুনি। বর্তমানে তাকে ‘টিস্যু পেপার’ আইসিইউতে রাখা হয়েছে তেল শুষে নেওয়ার জন্য।

পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে জিলাপির শিরার আঘাতে কিছুটা নরম হয়ে গেছেন আলুর চপ। বিবাদ মিটিয়ে সবাইকে এক করার চেষ্টা করলেও কেউ তাকে পাত্তা দেয়নি খেজুর।

BAUS এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বলেন, ​”আমরা বাইক চালাই ঠিকই, কিন্তু ইফতারের প্লেটে এমন ‘রেসিং’ আমরা সমর্থন করি না। জিলাপিকে তার প্যাঁচ কমাতে হবে এবং বেগুনীকে আরও একটু নমনীয় হতে হবে। তবে সুখের বিষয় হলো, শেষ পর্যন্ত পেয়াজু এবং ছোলার মধ্যস্থতায় এবং উপস্থিত সদস্যদের ‘পেটস্থ’ হওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।”

এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শরবত গ্লাসে বসে কেবলই ঘামছেন বরফ গলে পানি হয়ে যাচ্ছেন। এদিকে ছোলা বুট একজোট হয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। তাদের দাবি, কেন প্রতিবার তাদের চামচ দিয়ে পিটিয়ে বাটিতে তোলা হয়? বিবাদ মেটাতে রেফারি হিসেবে খোরমা খেজুর এগিয়ে এলেও ইফতারের সাইরেন বাজার সাথে সাথে পুরো ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ শান্ত হয়ে যায়। কারণ, ডাইনিং টেবিলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল ক্ষুধার্ত মানুষ।

 সম্পাদক ও প্রকাশক : আশিকুর রহমান | কপিরাইট © ভোরের পোস্ট, সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন