ভালুকায় স্কুলশিক্ষিকার প্রলোভনে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক মানুষ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:১২ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া এলাকায় ‘এ.ডি.এ মিউজিক অ্যাপস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক স্কুলশিক্ষিকা নিজেকে ওই অ্যাপের ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে স্থানীয়দের উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা সংগ্রহ করেন।

অ্যাপটির নাম শুনে অনেকে ভেবেছিলেন এটি একটি অনলাইন মিউজিক বা আয়ভিত্তিক অ্যাপ। কিন্তু বাস্তবে সেটি এখন ভালুকার বহু পরিবারের দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

ডাকাতিয়া গ্রামের মোসাঃ নাইমা সিফাত বন্যা, ডাকাতিয়া শহীদ স্মৃতি বিদ্যানিকেতনের এক শিক্ষিকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি নিজেকে ‘এ.ডি.এ মিউজিক অ্যাপস’-এর ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে মুনাফার আশ্বাস দেন। তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ৩,৮০০ টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ১২৫ টাকা, ১০,০০০ টাকায় ৩৩০ টাকা এবং ২৮,৮০০ টাকায় প্রতিদিন ১,০০০ টাকা করে রিটার্ন দেওয়ার কথা বলা হয়।

ডাকাতিয়া শহীদ স্মৃতি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক ও ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল খালেক বলেন, “নাইমা সিফাত বন্যা প্রথমে আমাদের নানা লোভনীয় প্রস্তাব দেয়। অনেকে প্রাথমিকভাবে কিছু টাকা পেলেও পরে হঠাৎ করে অ্যাপটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে কেউই আর তাদের বিনিয়োগ ফেরত পায়নি।”

আরেক ভুক্তভোগী আমিনুল হক জানান, “এই অ্যাপের মাধ্যমে ডাকাতিয়া এলাকার অনেক মানুষ প্রতারিত হয়েছে। বলা হয়েছিল মিউজিক শুনে বা দেখে ইনকাম করা যাবে। এই আশায় আমরা টাকা দিই, কিন্তু হঠাৎ অ্যাপ বন্ধ হয়ে সব হারালাম।”

শিক্ষিকা ফজিলা খাতুন বলেন, “আমি প্রথমে টাকা দিতে রাজি হইনি। পরে তারা রিটার্নের গ্যারান্টি দিয়ে রাজি করায়। কিন্তু আমি রেজিস্ট্রেশন করার পরেই অ্যাপ বন্ধ হয়ে যায়।”

অভিযোগকারীদের দাবি, শুরুতে কিছু বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিয়ে আস্থা তৈরি করা হয়। পরে বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করলে হঠাৎ করে অর্থ ফেরত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি ক্লাসিক পিরামিড বা পোনজী স্কিম—যেখানে পুরনো বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেওয়া হয় নতুনদের টাকায়, যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগ পাওয়া যায়।

বর্তমানে ‘এ.ডি.এ মিউজিক অ্যাপস’-এর কোনো অফিস, ওয়েবসাইট বা অফিসিয়াল রেজিস্ট্রেশনের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের মূল ব্যক্তিকে এখনও এলাকায় অবাধে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নাইমা সিফাত বন্যার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্বামী মোঃ সিফাত জানান,
“আমি প্রথমে ওই অ্যাপে কাজ শুরু করি। কাউকে প্রলোভন দেখাইনি। কেউ আগ্রহ দেখালে শুধু অ্যাপের পরিচয় করিয়ে দিতাম। অ্যাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত।”

স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 সম্পাদক ও প্রকাশক : আশিকুর রহমান | কপিরাইট © ভোরের পোস্ট, সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন