ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা। প্রতিষ্ঠানে কোনোভাবেই ফিরছে না শৃঙ্খলা। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত, গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ নানাবিধ মুমূর্ষু রোগীরা জরুরি সেবা নিতে এসেও পাচ্ছেন না উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা। বরং দায়সারাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও মর্মান্তিক অভিযোগ হলো, বহিরাগত ব্যক্তিরাই জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই এক চা বিক্রেতা জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মুফাজ্জল নামের এক ব্যক্তি চা বিক্রি করেন। কিন্তু বিকেল হলে তিনি চলে যান ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে। সেখানে তাকে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের ভূমিকায় দেখা যায়। জটিল রোগীদের সেবা দিতেও দেখা গেছে তাকে।
সেবা নিতে আসা উপজেলার শর্শি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মনসুর মিয়া বলেন, “আমার ছেলে অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লাগায় গলায় কাঁচের টুকরা ঢুকে গুরুতর আহত হয়। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে এই যুবক (মুফাজ্জল) তার গলায় সেলাই করে দেয়। আমরা তো এসব বুঝি না। এত জটিল চিকিৎসা যদি চা বিক্রেতাই দেয়, তাহলে মানুষ ভয়ে আর হাসপাতালে আসবে কি করে?”
জানা গেছে, চিকিৎসক সংকটের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাব্যবস্থা বিপর্যস্ত। এই সুযোগে অনিয়মের মাধ্যমে দায়সারা চিকিৎসা দিচ্ছেন কিছু কর্মী। এছাড়া, বহিরাগত দুই স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে জরুরি বিভাগের কাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানান, বহিরাগতরা জরুরি বিভাগে বিনা খরচে সেবা দেওয়ার কথা বললেও নানাভাবে রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। এছাড়াও, বিনা সেবার আড়ালে তারা জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে রেফার করার পাশাপাশি বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে কমিশন নিচ্ছেন বলে অভিযোগ শোনা যায়।
এ বিষয়ে চা বিক্রেতা মুফাজ্জলের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদ হোসেইন বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। আমার কতজন স্টাফ আছে, সে বিষয়েও আমি পুরোপুরি অবগত নই। আপনি যে বিষয়টি জানালেন, আমি তা খতিয়ে দেখব।”
