খুনের মামলার বিচার থেকে বাঁচতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজিয়েছিলেন ভারতের উত্তর প্রদেশের এক ব্যক্তি। নিজের মরদেহের পরিবর্তে চিতায় পোড়ান একটি মৃত ছাগল। এআই দিয়ে তৈরি করেন মরদেহের ছবি এবং জাল নথিপত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করেন মৃত্যুসনদ। তবে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম রাজকুমার রাজভর (৩৮)। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উত্তর প্রদেশের মাউ জেলার খাজওয়াজাহানপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর মুনশিপুরা রেললাইনের কাছে গুলিতে নিহত হন যোগেশ সিং। এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা অবিনাশ সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজকুমার রাজভর ও তার বন্ধু সুদর্শন রাজভরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় জামিনে ছিলেন রাজকুমার।
পুলিশের ভাষ্য, হত্যা মামলার বিচার চলাকালে ২০২৫ সালের ৩০ মে গাজীপুরে নিজের মৃত্যুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন রাজকুমার। এআই প্রযুক্তির সাহায্যে চিতায় শায়িত মরদেহের ছবি তৈরি করেন তিনি। এরপর একটি মৃত ছাগল চিতায় পুড়িয়ে নিজের শেষকৃত্যের দৃশ্য সাজান।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার এসব ভুয়া ছবি ও জাল নথিপত্র ব্যবহার করে মাউ পৌরসভা থেকে মৃত্যুসনদও সংগ্রহ করেন রাজকুমার। পরে ওই মৃত্যুসনদ আদালতে জমা দিয়ে নিজের মৃত্যু প্রমাণের চেষ্টা করেন তিনি।
মাউ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুপ কুমার জানান, রাজকুমার দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তিনি শেয়ারবাজারে লেনদেন করতেন এবং বিনিয়োগের কথা বলে বিভিন্ন শহরের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন।
পুলিশের অভিযোগ, হত্যা মামলার বিচার এড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যেও নিজের মৃত্যুর পরিকল্পনা করেছিলেন রাজকুমার। এ উদ্দেশ্যে তিনি ভুয়া মৃত্যুর ঘটনা সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
প্রায় দেড় বছর আত্মগোপনে থাকার পর তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি যোগেশ সিং হত্যা মামলার বিচারও পুনরায় চলবে।
সূত্র: এনডিটিভি