ঈশ্বরগঞ্জে ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া খুন, আটক ৫
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পারিবারিক কলহ ও জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটিতে মুরগির বিচরণকে কেন্দ্র করে দাদিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে নাতি। দুটি ঘটনায় ইতোমধ্যে মোট পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
১. মুরগির বিচরণকে কেন্দ্র করে দাদি খুন
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার খৈরাটি উত্তরপাড়া গ্রামে প্রথম মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পালিত মুরগির বিচরণ নিয়ে রৌশনআরা (৬২)-এর সঙ্গে তাঁর ভাতিজা গোলাম মোস্তফা (৩৫)-এর তর্ক শুরু হয়। তর্কের একপর্যায়ে গোলাম মোস্তফা ও তাঁর ছেলে সাখাওয়াত হোসেন (১৭) রৌশনআরাকে মারধর করতে থাকে। গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, ১৭ বছর বয়সী নাতি সাখাওয়াত একপর্যায়ে দা দিয়ে তাঁর দাদি রৌশনআরাকে কোপ দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় রৌশনআরাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে পথিমধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
২. পূর্ব শত্রুতার জেরে খোকন মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা
দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মগটুলা ইউনিয়নের করমা গ্রামে। নিহতের ছেলে মো. বিল্লাল হোসেনের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, জায়গা-জমি নিয়ে খোকন মিয়ার সঙ্গে একই বংশের আসামিদের দীর্ঘদিনের পূর্ব শত্রুতা ছিল। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বদর উদ্দিন আল সানি বাদলসহ মোট ১৩ জন নামীয় ও ৪-৫ জন অজ্ঞাত আসামি ধারালো দা, রামদা, লোহার রড, বল্লম ও লাঠিসোটা নিয়ে খোকন মিয়ার নিজ বাড়ির উঠানে তাঁর ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়।
হামলাকারীরা রামদা দিয়ে খোকন মিয়ার মাথায় কোপ দেয় এবং লোহার হাতুড়ি, পাইপ ও রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। পরিবারের সদস্যরা খোকন মিয়াকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোররাতে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
আইনগত পদক্ষেপ
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল রহমান দুটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “মরদেহ দুটির সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুটি ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

আপনার মতামত লিখুন